Thursday, September 1, 2016

সমাজসেবার অন্তরালে অবৈধ ব্যাংকিং

কাটগড়া জনতা সমিতি
সমাজসেবার অন্তরালে অবৈধ ব্যাংকিং




গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের কাটগড়া হাটে কাটগড়া জনতা সমিতি নামে একিটি সমিতি ( যার রেজিঃ নং- গাইবান্ধা/সুন্দরগঞ্জ/১০৯৬) ১৯৯১ সাল থেকে অবৈধ ভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম (সঞ্চয় আমানত গ্রহন) চালিয়ে আসছে। ০৬/০৩/২০১৩ খ্রিঃ তারিখ থেকে জাতীয় দিবস উৎযাপন এবং মৎস্য চাষের উদ্দেশ্যে সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নেয় কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি কোন প্রকার দিবস উৎযাপন বা মস্যচাষ সম্পর্কিত কোন প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা কোন প্রকার সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে দেখা যায়নি এবং প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রকাশ্যে কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন হয়নি এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যান সংস্থাসমূহ বিধি ১৯৬২, ধারা ৯ এর গ) মোতাবেক অডিট করা হয়নি। এছাড়া ধারা ৯ এর অন্যান্য উপ ধারার বিষয়গুলিও উপেক্ষা করা হয়েছে।

সমাজ সেবার অন্তরালে তারা জনসাধারণের নিকট থেকে ১০/২০/৫০/১০০ টাকা মূল্যের বিভিন্য আমানত প্রকল্পের (সঞ্চয় গ্রহন) মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় আনুমানিক ২০০০ জন এবং গৃহীত আমানতের পরিমান দুই কোটি টাকার ও বেশী।

সংগৃহীত আমানত সংস্থার পরিচালকগণ নিজেদের ব্যবসা বানিজ্যে বিনিয়োগ করে এবং স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করে নিজেদের ফায়দা হাসিল কারছে। এমতাবস্থায় গত ১৯ আগষ্ট ২০১৬ তারিখে জনাব মোঃ সাজেদুল ইসলাম, পিতাঃ মৃত বাহার উদ্দিন প্রামানিক, গ্রামঃ সাহাবাজ (মাস্টারপাড়া), ডাকঃ বামনডাঙ্গা, উপজেলাঃ সুন্দরঞ্জ, জেলাঃ গাইবান্ধা বাদি হয়ে, গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ফেসবুক পেজে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত সাপেক্ষে বিধি সম্মত ব্যবস্থা নেওয়ার আস্বাস দেন।

এরই সুত্র ধরে গত ২১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার,  জনাব মোঃ গোলাম আযম, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার, সুন্দরগঞ্জ এবং জনাব মোঃ আঃ সামাদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, সুন্দরগঞ্জ এর সমন্বয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে (যার স্বারক নং ০৫.৫৫.৩২৯১.০২২.১৮.০১১.১৬-৯৬৫। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার অভিযোগকারী জনাব মোঃ সাজেদুল ইসলামকে (১ম পক্ষ) বাদী এবং উল্লেখিত সমিতিকে দ্বিতীয় পক্ষ করে ২৮ আগষ্ট ২০১৬ তারিখ সকাল ১০টায় সমিতির কার্যালয়ে তদন্ত করেন (সুত্রঃ স্বারক নং 41.01.3231.000.14.003.15.314(5), তারিখঃ- ২৩, ৮, ২০১৬)। অদ্যাবধি ঐ সমিতির বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানা যায়নি। অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনের সামনেই তারা এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।



No comments:

Post a Comment